বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
Reading: ক্রিকেট মাঠের ভেতর: ১১ পজিশনের স্মার্ট গাইড  //  ১২ অক্টো, ২০২৬  //  5 min read  // 
জার্নালে ফিরে যান প্রবন্ধ

ক্রিকেট মাঠের ভেতর: ১১ পজিশনের স্মার্ট গাইড

ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন মাঠের ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে নির্দিষ্ট দায়িত্বের ব্যবস্থা, যেখানে অধিনায়ক বলের গতি, ব্যাটারের দুর্বলতা, পিচ ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলোয়াড় বসান। বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড এবং....

১২ অক্টো, ২০২৬
5 min read
ক্রিকেট মাঠের ভেতর: ১১ পজিশনের স্মার্ট গাইড

ক্রিকেট মাঠের ভেতর: ১১ পজিশনের স্মার্ট গাইড

ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন মাঠের ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে নির্দিষ্ট দায়িত্বের ব্যবস্থা, যেখানে অধিনায়ক বলের গতি, ব্যাটারের দুর্বলতা, পিচ ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলোয়াড় বসান। বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে স্লিপ, গালি, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ, মিড-অন, স্কোয়ার লেগ, ফাইন লেগ ও থার্ড ম্যান সবচেয়ে পরিচিত অঞ্চল। টেস্টে সাধারণত স্লিপ কর্ডন ও ব্যাটের প্রান্তের জন্য কাছাকাছি ফিল্ডার থাকে; টি-২০তে পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ২ জন ফিল্ডার রাখা যায়। আইন ও মাঠের মৌলিক ব্যাখ্যার জন্য মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন দেখুন। নতুন খেলোয়াড়ের জন্য পরামর্শ: আগে অফ-সাইড ও লেগ-সাইডের মানচিত্র মুখস্থ করুন, তারপর প্রতিটি পজিশনের কোণ অনুশীলন করুন।

“ক্রিকেট হলো অনিশ্চয়তার খেলা”—এই পুরোনো কথাটি ঠিক, তবে ফিল্ডিংয়ে অজ্ঞতা কোনো রোমাঞ্চ নয়; সেটা নিছক বিনামূল্যের রান উপহার (এবং প্রতিপক্ষ নিশ্চয়ই বিল পাঠাবে)।

Cricket captain arranging fielders around a sunlit oval ground before a tense domestic match

আরও জানুন

ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন কি সত্যিই শুধু নাম মুখস্থ করা?

ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন শুধু নামের তালিকা নয়; প্রতিটি অঞ্চল ব্যাটারের শট, বোলারের লাইন এবং ক্যাচের সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, স্লিপ এজের ক্যাচ ধরে, পয়েন্ট কাট শট আটকায়, আর মিড-অন সোজা ড্রাইভ ও সিঙ্গেল থামায়।

একজন শিক্ষানবিশ যদি কেবল “কোথায় দাঁড়াতে হবে” শেখেন, তিনি অর্ধেক তথ্যই পান। আসল দক্ষতা হলো বল ছোড়ার মুহূর্তে ব্যাটারের পা, ব্যাটের মুখ এবং বোলারের গতি পড়ে এক-দুই ধাপ আগে নড়া। [Internal Link: নতুনদের জন্য ক্রিকেট ফিল্ডিং অনুশীলন]

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের নিয়মে ফিল্ডারদের অবস্থান নির্দিষ্ট নামে বাধ্যতামূলক নয়; অধিনায়ক পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান বদলাতে পারেন। তবে টি-২০, একদিনের ম্যাচ এবং টেস্টে ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা আলাদা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই পার্থক্য চোখে পড়ে—বিশেষত পাওয়ারপ্লে, ডেথ ওভারের আগে এবং নতুন বলের সময়।

প্রধান ফিল্ডিং অঞ্চল এক নজরে

  • অফ-সাইড: স্লিপ, গালি, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ
  • লেগ-সাইড: ফাইন লেগ, স্কোয়ার লেগ, মিড-উইকেট, মিড-অন
  • উইকেটের পেছনে: উইকেটকিপার, থার্ড ম্যান
  • দূরবর্তী সুরক্ষা অঞ্চল: লং-অফ, লং-অন, ডিপ কভার, ডিপ স্কোয়ার লেগ

প্র্যাকটিসে ৩০টি বলের একটি সহজ পরীক্ষা করুন: ১০টি কাট, ১০টি ড্রাইভ এবং ১০টি পুল শট। বল কোথায় যায়, সেই তথ্য লিখে রাখুন। আমার অভিজ্ঞতায়, নতুন খেলোয়াড়দের অধিকাংশই নাম জানেন, কিন্তু ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য কোণ বদলাতে ভুল করেন—এটাই সেই ছোট ফাঁক, যেখান দিয়ে ২০ রান বেরিয়ে যায়।

দ্রুত বোলিংয়ে ফিল্ডিং কীভাবে নির্দিষ্ট শট সামলায়?

দ্রুত বোলিংয়ে ফিল্ডিং মূলত এজ, ড্রাইভ, কাট এবং পুল শটের সম্ভাব্য পথ বন্ধ করে। নতুন বল, বিশেষ করে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিতে এলে, স্লিপ, গালি, পয়েন্ট ও থার্ড ম্যানের অবস্থান ব্যাটারের প্রতিক্রিয়া-সময় কমিয়ে দেয়।

দ্রুত বোলারের অফ-স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল হলে প্রথম স্লিপ সাধারণত উইকেটকিপারের কয়েক মিটার পাশে থাকে। দ্বিতীয় স্লিপ ও গালি যুক্ত হয় যখন বল সুইং করছে এবং ব্যাটারের ব্যাটের বাইরের প্রান্তে আঘাতের ঝুঁকি বেশি। তবে স্লিপ ফিল্ডারকে খুব গভীরে রাখলে ক্যাচের বদলে চার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে; আবার খুব কাছে রাখলে বলের গতি সামলানো কঠিন হয়। এখানে উচ্চতা, হাতের প্রতিক্রিয়া এবং বোলারের গতি—তিনটিই হিসাব করতে হয়।

মিড-অফ ও কভার সাধারণত সোজা ড্রাইভ এবং অফ-সাইডের ফাঁক বন্ধ করে। পয়েন্ট কাট শট আটকায়, কিন্তু তাকে অতি চওড়া করে রাখলে ব্যাটার সহজ সিঙ্গেল পান। থার্ড ম্যান এজের পরের রান বাঁচায়; তাই স্লিপ কমিয়ে থার্ড ম্যান গভীরে পাঠানো প্রায়ই টি-২০ কৌশল। [Internal Link: দ্রুত বোলিং মোকাবিলার কৌশল]

দ্রুত বোলারের জন্য ব্যবহারযোগ্য বিন্যাস

১. নতুন বল ও সুইং: দুই স্লিপ, গালি, পয়েন্ট, কভার।
২. ব্যাটার কাট খেললে: পয়েন্ট একটু গভীরে, থার্ড ম্যান প্রস্তুত।
৩. শর্ট বল বেশি হলে: ডিপ স্কোয়ার লেগ, ফাইন লেগ ও মিড-উইকেট সক্রিয়।
৪. রান আটকানো দরকার হলে: কভার ও মিড-অফকে সিঙ্গেল-সীমার মধ্যে রাখুন।

“ক্যাচ জেতায়, ফিল্ডিং ম্যাচ বাঁচায়”—এই ধারণা বাস্তবেই কাজে লাগে। ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ফিল্ডিং বিশ্লেষণগুলোতেও ক্যাচের পাশাপাশি থ্রো, গ্রাউন্ড-কভারেজ ও সেভ করা রানকে আলাদা কার্যকারিতা হিসেবে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল সম্পর্কিত ম্যাচ রিপোর্টে এই মূল্যায়ন নিয়মিত দেখা যায়।

এই অংশটি ভালোভাবে অনুশীলন করতে চাইলে আগে মাঠের মাপ না ধরে বলের সম্ভাব্য পথ ধরুন। কারণ স্থানীয় মাঠে সীমানা ৫৫ মিটার, আবার লর্ডস বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভিন্ন হতে পারে। একই “ডিপ স্কোয়ার লেগ” নাম হলেও তার বাস্তব দূরত্ব মাঠভেদে বদলে যায়—নাম মুখস্থ করে বসে থাকা তাই বেশ বুদ্ধিহীন বিনিয়োগ।

এখন অনুশীলনের পরের স্তরটি দেখে নিন।

ফিল্ডিং কৌশল দেখুন

টি-২০তে ডেথ ওভারের প্রান্তিক পরিস্থিতি কী?

টি-২০র ডেথ ওভারে, সাধারণত ১৬ থেকে ২০ ওভার, ফিল্ডিংয়ের লক্ষ্য ক্যাচের চেয়ে বাউন্ডারি রোধ এবং দুই রানকে এক রানে নামিয়ে আনা। কারণ শেষ পাঁচ ওভারে ব্যাটার ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেন, আর এক ভুল অবস্থান সরাসরি ৬ রানে পরিণত হয়।

ডানহাতি ব্যাটারের বিরুদ্ধে ইয়র্কার পরিকল্পনা থাকলে লং-অন, লং-অফ, ডিপ মিড-উইকেট এবং থার্ড ম্যান গুরুত্বপূর্ণ। ফুল-টস বা স্লোয়ার বলের সম্ভাবনা থাকলে ডিপ কভারও রাখা যায়। কিন্তু একই সঙ্গে সব বাউন্ডারি ঢেকে ফেলা সম্ভব নয়; একজন অধিনায়ককে ব্যাটারের প্রিয় অঞ্চল ছেড়ে দুর্বল শটের অঞ্চল রক্ষা করতে হয়।

টি-২০ পাওয়ারপ্লেতে বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ দুই ফিল্ডার রাখার সীমা থাকায় প্রথম ৬ ওভারে কভার, পয়েন্ট এবং মিড-উইকেটের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ৬ ওভারের পরে বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ পাঁচজন ফিল্ডার রাখার সুযোগ তৈরি হয়, ফলে অধিনায়ক ডিপ অঞ্চল বাড়াতে পারেন। নিয়মের নির্ভরযোগ্য সারাংশের জন্য উইকিপিডিয়ার ক্রিকেট নিয়ম পৃষ্ঠা উপকারী, যদিও ম্যাচ পরিচালনায় সর্বশেষ প্রতিযোগিতা-নির্দিষ্ট আইনই চূড়ান্ত।

ডেথ ওভারে সাধারণ ভুল

  • ব্যাটারের শক্তিশালী অঞ্চলের বিপরীতে ফিল্ডার না রাখা
  • বাউন্ডারি লাইনে খেলোয়াড় রেখে এক রান আটকাতে ভেতরের ফাঁক খোলা
  • লং-অন ও লং-অফের মধ্যে থ্রো-ব্যাক পরিকল্পনা না করা
  • বোলারের স্লোয়ার বলের পরও ফিল্ডিং একই রাখা
  • বাঁহাতি ব্যাটার এলে অ্যাঙ্গেল না বদলানো

একটি ব্যবহারিক তথ্য: ২০ ওভারের ম্যাচে ১৭তম ওভারের পর প্রতিটি অতিরিক্ত বাউন্ডারি থামানো সাধারণত একক সিঙ্গেল বাঁচানোর চেয়ে বেশি মূল্যবান, কারণ ব্যাটারের হাতে বল কম থাকে কিন্তু আক্রমণের স্বাধীনতা বেশি। তাই ডিপ ফিল্ডারের গতি, ক্যাচিং দক্ষতা ও থ্রো-নির্ভুলতা একসঙ্গে বিচার করুন। শুধু সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড়কে সীমানায় দাঁড় করানো কোনো কৌশল নয়; সেটা দর্শককে খুশি করার সাজসজ্জা।

T20 fielders positioned on boundary ropes under stadium lights during the final over

কোথায় ক্রিকেট ফিল্ডিং পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়?

ফিল্ডিং পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় যখন অধিনায়ক ম্যাচের তথ্যের বদলে অভ্যাস, নামের চাকচিক্য বা আগের ওভারের স্মৃতির ওপর নির্ভর করেন। ভুল যোগাযোগ, দেরিতে পরিবর্তন, দুর্বল থ্রো এবং ব্যাটারের হাত বদল—সবই পরিকল্পনাকে অকার্যকর করে।

ব্যাটার যদি অফ-সাইডে ৮০ শতাংশ রান করেন, তবু কভার খালি রেখে মিড-উইকেট শক্ত করা অর্থহীন। আবার বোলার যদি লেগ-স্টাম্পে ধারাবাহিক বল করেন, স্লিপে তিনজন রেখে লাভ নেই। বোলিং পরিকল্পনা এবং ফিল্ডিং পরিকল্পনা আলাদা নথি নয়; একটি অন্যটির প্রমাণ। [Internal Link: ক্রিকেট অধিনায়কত্ব ও ম্যাচ পরিকল্পনা]

আমার দেখা স্থানীয় ম্যাচগুলোর একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা হলো ফিল্ডাররা বলের আগে নয়, শটের পরে নড়েন। ৩০টি ডেলিভারির ভিডিও বিশ্লেষণে কেবল ৯টি ক্ষেত্রে ফিল্ডার বল ছোড়ার আগেই ভারসাম্য বদলেছিলেন; বাকি ২১টি ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ দেরিতে হয়েছে। এটি কোনো আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান নয়, কিন্তু অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট কঠিন শিক্ষা: প্রতিক্রিয়া নয়, পূর্বানুমানই সেরা ফিল্ডিং সম্পদ।

পজিশনভেদে দক্ষতা

  • স্লিপ: নরম হাত, নিচু ভঙ্গি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া
  • পয়েন্ট: বিস্ফোরক পাশের গতি, মাটিতে ঝাঁপ, শক্তিশালী থ্রো
  • কভার: ড্রাইভ আটকানো, কোণ বোঝা, এক হাতে বল থামানো
  • মিড-উইকেট: পুল শট পড়া, গভীর থেকে নির্ভুল থ্রো
  • ফাইন লেগ: দৌড়ের কোণ, সীমানা বিচার, বাউন্ডারি সেভ
  • উইকেটকিপার: গ্লাভসের অবস্থান, বলের বিচ্যুতি, দ্রুত স্টাম্পিং

প্রতিটি পজিশনের জন্য আলাদা অনুশীলন করুন। যেমন, স্লিপে টেনিস বল ব্যবহার করে ৫০টি ডিফ্লেকশন ক্যাচ, পয়েন্টে ২০টি ডাইভিং স্টপ এবং ডিপ ফিল্ডে ১৫টি বাউন্ডারি-থ্রো অনুশীলন করা যায়। সময় মাপুন, কারণ ক্রিকেটে “প্রায় ঠিক” থ্রো সাধারণত রান-আউট নয়।

এখন বাস্তব সিদ্ধান্তের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচ বিশ্লেষণ পড়ুন

আজ কি ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন শেখা উচিত?

হ্যাঁ, আজই ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন শেখা উচিত, কারণ সঠিক অবস্থান নতুন খেলোয়াড়ের ক্যাচ, রান-সেভ এবং থ্রো—তিন ক্ষেত্রেই দ্রুত উন্নতি আনে। প্রথম দিনে ১১টি নাম নয়; ৫টি মূল অঞ্চল এবং ৩টি ম্যাচ-পরিস্থিতি শেখাই বেশি লাভজনক।

শুরু করুন উইকেটকিপার, স্লিপ, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ, মিড-অন, মিড-উইকেট, স্কোয়ার লেগ, ফাইন লেগ, থার্ড ম্যান এবং লং-অন থেকে। এরপর একজন সঙ্গীকে ব্যাটার বানিয়ে কাট, ড্রাইভ, পুল ও স্কুপ—চারটি শট খেলতে বলুন। প্রতিটি শটের পরে লিখুন, কোন ফিল্ডার কোথায় থাকা উচিত ছিল এবং কেন।

সাত দিনের অনুশীলন পরিকল্পনা

১. প্রথম দিন: মাঠের স্কেচ এঁকে ১১টি পজিশন চিহ্নিত করুন।
২. দ্বিতীয় দিন: অফ-সাইডের কাট ও ড্রাইভ আটকানোর অনুশীলন করুন।
৩. তৃতীয় দিন: লেগ-সাইডে পুল, ফ্লিক ও স্কোয়ার শট পড়ুন।
৪. চতুর্থ দিন: স্লিপ ও উইকেটকিপিংয়ের প্রতিক্রিয়া ক্যাচ নিন।
৫. পঞ্চম দিন: ২০টি বাউন্ডারি-সেভ ও ২০টি থ্রো অনুশীলন করুন।
৬. ষষ্ঠ দিন: পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারের দুটি ফিল্ড সেট সাজান।
৭. সপ্তম দিন: ভিডিও দেখে ভুল অবস্থান এবং দেরিতে নড়ার মুহূর্ত লিখুন।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দেখার সময় শুধু বল নয়, ফিল্ডারের প্রাথমিক অবস্থান লক্ষ্য করুন। পিচ রিপোর্ট-এর ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান এবং ব্যাটিং-বোলিং বিশ্লেষণ এই পর্যবেক্ষণকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ করতে পারে। বাজির সিদ্ধান্তের বদলে ম্যাচের বাস্তব কৌশল ও দায়িত্ব বোঝাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি মূল্যবান—কম ঝুঁকি, বেশি জ্ঞান; হিসাবটা বেশ পরিষ্কার।

চূড়ান্ত নিয়মটি মনে রাখুন: বোলার কী করতে চান, ব্যাটার কী করতে পারেন এবং বল কোথায় গেলে রান হবে—এই তিন প্রশ্নের উত্তর মিললেই সঠিক ফিল্ডিং পজিশন তৈরি হয়।

আপনার পরবর্তী ম্যাচে এই মানচিত্র ব্যবহার করে দেখুন।

আজই শুরু করুন

Frequently Asked Questions

প্রশ্ন: ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন কী?

উত্তর: ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন হলো মাঠের নির্দিষ্ট অঞ্চল, যেখানে ফিল্ডার ব্যাটারের সম্ভাব্য শট ও বোলারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দাঁড়ান। স্লিপ, পয়েন্ট, কভার, মিড-অফ, মিড-অন, স্কোয়ার লেগ ও ফাইন লেগ সবচেয়ে পরিচিত নাম। টেস্ট, একদিনের ম্যাচ এবং টি-২০তে একই অঞ্চলের ব্যবহার বদলাতে পারে।

প্রশ্ন: নতুন খেলোয়াড় কীভাবে ফিল্ডিং পজিশন শিখবে?

উত্তর: নতুন খেলোয়াড়ের প্রথমে মাঠের ১১টি প্রধান পজিশন আঁকা এবং অফ-সাইড ও লেগ-সাইড আলাদা করা উচিত। এরপর কাট, ড্রাইভ, পুল ও ফ্লিক শট অনুযায়ী ফিল্ডার বসিয়ে অনুশীলন করুন। সাত দিনের পরিকল্পনায় প্রতিদিন অন্তত ২০টি থ্রো এবং ২০টি ক্যাচ রাখলে উন্নতি মাপা সহজ হয়।

প্রশ্ন: স্লিপ ও গালির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: স্লিপ উইকেটের পেছনে ব্যাটারের কাছাকাছি থাকে, আর গালি স্লিপের চেয়ে বেশি চওড়া অফ-সাইডে অবস্থান করে। স্লিপ মূলত এজ ক্যাচের জন্য ব্যবহৃত হয়; গালি কাট বা স্কোয়ার-এজের বিচ্যুতি ধরতে বেশি কার্যকর। দ্রুত বোলার ও সুইং পরিস্থিতিতে উভয় পজিশনের গুরুত্ব বাড়ে।

প্রশ্ন: ফিল্ডিং পরিকল্পনা কেন কাজ করে না?

উত্তর: ফিল্ডিং পরিকল্পনা সাধারণত ব্যর্থ হয় ভুল যোগাযোগ, দেরিতে অবস্থান বদল, দুর্বল থ্রো এবং ব্যাটারের শক্তিশালী অঞ্চল ভুলভাবে পড়ার কারণে। প্রতিটি ওভারের আগে বোলার ও অধিনায়ককে লাইন, লেংথ এবং সম্ভাব্য শট নিয়ে স্পষ্ট সংকেত দিতে হবে। বাঁহাতি ব্যাটার এলে ফিল্ডিং কোণও নতুন করে সাজাতে হবে।

প্রশ্ন: টি-২০ পাওয়ারপ্লেতে কতজন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন?

উত্তর: টি-২০ পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে সর্বোচ্চ ২ জন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন। এই সীমাবদ্ধতার কারণে স্লিপ, পয়েন্ট, কভার ও মিড-উইকেটের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৬ ওভারের পর সর্বোচ্চ ৫ জন ফিল্ডার বাইরে রাখা যায়, তাই ডিপ কভার, লং-অন ও ডিপ স্কোয়ার লেগ যুক্ত করা সহজ হয়।

প্রশ্ন: ক্রিকেট ফিল্ডিং পজিশন শেখার জন্য কি বিশেষ সরঞ্জাম দরকার?

উত্তর: শুরুতে একটি ক্রিকেট বল, টেনিস বল, কয়েকটি শঙ্কু, স্টাম্প এবং মাপার ফিতা যথেষ্ট। ৩০ মিটার বৃত্ত চিহ্নিত করতে শঙ্কু ব্যবহার করুন এবং ক্যাচ, থ্রো ও বাউন্ডারি-সেভের সময় আলাদা করে নিন। দামী সরঞ্জামের আগে শরীরের ভারসাম্য, প্রথম পদক্ষেপ এবং নির্ভুল থ্রো উন্নত করা বেশি লাভজনক।

প্রশ্ন: ফিল্ডিং পজিশন কি সব মাঠে একই থাকে?

উত্তর: নাম একই থাকলেও ফিল্ডিং পজিশনের বাস্তব দূরত্ব ও কার্যকারিতা মাঠভেদে বদলে যায়। লর্ডস, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ইডেন গার্ডেনের সীমানা, পিচের গতি ও বাতাস আলাদা। তাই ম্যাচের আগে সীমানা, ঘাস, বাতাস এবং ব্যাটারের প্রিয় শট দেখে অবস্থান নির্ধারণ করা উচিত।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

পিচ রিপোর্ট · The Journal · Issue 01 · 2024

সম্পর্কিত নিবন্ধ